ইতিহাস

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যা করার পর বাংলাদেশকে উল্টোপথে ধাবিত করার ষড়যন্ত্র করা হয়। এ অবস্থায় বঙ্গবন্ধুর জীবনদর্শনকে সকলের সামনে তুলে ধরার এবং বঙ্গবন্ধুর সারাজীবনের সংগ্রামের ফসল এই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধজাত স্বপ্ন ও প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রখ্যাত পরমাণুবিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া একটি সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। তাঁরই নেতৃত্বে প্রয়াত অধ্যক্ষ আয়ুব আলী, আলাউদ্দিন সাগর, মেজর (অব.) মুজিবর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত সচিব মাহবুব আলম ও অধ্যাপক সিরাজুল হক আলো- এর মতো পেশাজীবি মানুষের সহায়তায় ২০০১ সনের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে গড়ে ওঠে যুগোপযোগী একটি সংগঠন “বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ”। পরিষদের গঠনতন্ত্র প্রণয়নের প্রয়োজনে একটি কমিটি গঠন করে অধ্যাপক সিরাজুল হক আলোকে প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে ২০০২ সালে প্রতিনিধি সম্মেলনের মাধ্যমে ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়াকে সভাপতি, অধ্যাপক সিরাজুল হক আলোকে সাধারণ সম্পাদক করে ৫০ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠিত হয়। পরিষদের জন্মলগ্ন থেকেই এর মূল্য লক্ষ্য ছিলো যুগপৎ তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনের কার্যপরিধি বিস্তার ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে কাজ করা। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. এম.এ. ওয়াজেদ মিয়া সব সময়ই ছাত্র, শিক্ষক যুবক ও মহিলাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় সামাজিক অবক্ষয় রোধের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছেন। ২০০৬ সালের দিকে আরেকটি প্রতিনিধি সম্মেলনের মাধ্যমে ৫০ সদস্যবিশিষ্ট নতুন একটি কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠিত হয়। পর্যায়ক্রমে ২০০৯ সালে ও ২০১২ সালে সম্মেলনের মাধ্যমে কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠিত হয় এবং ২০১৩ ও ২০১৮ সালে বর্ধিত সভার মাধ্যমে কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠিত হয়।

বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ মনে করে বঙ্গবন্ধুর কর্ম ও সংগ্রামী জীবন থেকেই শিক্ষা নিয়ে গড়ে তোলা যায় আধুনিক, বিজ্ঞানমনস্ক, উন্নত, ডিজিটাল বাংলাদেশ। এই পরিষদ বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরবে। দেশগঠনে তার চিন্তাধারা, স্বপ্ন, কর্মসূচী নিয়ে গবেষণা করা হবে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গণে বঙ্গবন্ধুকে সঠিকভাবে উপস্থাপনা এই পরিষদের মূল উদ্দেশ্য।